বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাডমিশন অফার পেয়ে গেছেন। হাতে আছে ফর্ম আই-২০। এখন আপনার কাজ ভিসা প্রসেস করা। সেভিস ফি জমা দেওয়া থেকে শুরু করে ইন্টার্ভিউ ফেস করা পর্যন্ত আপনার যা যা করনীয় তা নিচে আলোচনা করা হল। আশা করি এতে আপনার কিছুটা হলেও উপকার হবে।

১। সেভিস ফি প্রদানঃ

নিজের অথবা পরিচিত কারো ক্রেডিট কার্ড থাকলে আপনি সহজেই সেভিস ফি দিতে পারবেন। চাইলে আপনার হয়ে অন্য কেউ এই ফি জমা দিয়ে দিতে পারে। তাকে অবশ্যই আপনার যাবতীয় দরকারি তথ্য (যেমন: কোন পেইজে যেয়ে পেমেন্ট করতে হবে, আপনার স্কুল কোড, ঠিকানা, জন্ম তারিখ, সেভিস নাম্বার ইত্যাদি) জানিয়ে দিলে তিনি আপনার হয়ে সেভিস ফি এর এই ২০০ ডলার করে জমা দিতে পারবেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে এবং পেমেন্ট জমা দেওয়ার পরে একটি  কনফার্মেশন পেইজ পিডিএফ করে নিয়ে প্রিন্ট করে নিজের কাছে রাখতে হবে।

যাদের পরিচিতজন অথবা ক্রেডিট কার্ড কোনটাই যদি না থাকে তাহলে আপনি ব্যাংক এশিয়া (PRINCIPLE BRANCH – MOTIJHEEL – OPPOSITE OF BIMAN BHAVAN) এর সাহায্যেও এই ফি প্রদানের কাজটি করতে পারেন।  তবে তার জন্য আপনাকে একটি পন্থা অনুসরণ করতে হবে। আপনাকে আই-২০ এর ফটোকপি, ২ কপি পাসপোর্ট সাইজ ফটো, ১৬৫০০ টাকা (USD 200 + 575TK),পাসপোর্টের ফটোকপি নিয়ে ব্যাংকের ৩য় তলায় “কার্ড-সেকশন” এ যেতে হবে। দুশ্চিন্তার কোন কারন নেই। ওখানে গেলেই আপনি বুঝতে পারবেন কিভাবে ফি জমা দিতে হবে।

২। ভিসার জন্য ফটো তোলাঃ

যেসব স্টুডিওতে বিশেষ করে আমেরিকার ভিসার জন্য ছবি তুলে থাকে, তাদের যেকোনো একটি স্টুডিওতে গেলেই ছবি তোলা যাবে। তবে মনে রাখা ভালো, ছবির একটি সফট কপি আপনাকে অবশ্যই পেইন-ড্রাইভে করে নিয়ে আসতে হবে। সাথে হার্ড কপিও আনবেন পাসপোর্ট আর ভিসা সাইজ, যদিও হার্ড কপি খুব একটা দরকার হবে না। শুধু সফট কপিটাই আপনাকে ফটো আপলোড-এখানে ফিলাপের সময় আপলোড করতে হবে।

৩। DS 160 ফর্ম ফিলাপ:

DS 160 ফর্ম নিজে ফিলাপ করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। এই লিংকে DS 160 ফর্ম গিয়ে একটা আপ্লিকেশন স্টার্ট করুন। তারপর আপনার সকল তথ্য সঠিকভাবে দিয়ে ফর্মটা ফিলাপ করুন। এটা ৩০ দিন অবধি সেভ করে রাখা যায়, কাজেই তাড়াহুড়া না করে ধীরে সুস্থে ফিলাপ করুন। আপনি ৩০ দিনের মধ্যে যেকোনো সময় চাইলে আপ্লিকেশন আইডি (একটা দিবে) ব্যাবহার করে আবার এডিট করতে পারবেন। তবে একবার সাবমিট করে ফেললে আর কিন্তু এডিট করা যাবেনা। ভুল কিছু হয়ে থাকলে আবার নুতন করে আপ্লিকেশন ফিলাপ করুন। তবে সব সঠিক তথ্য দিয়ে করা ফর্মটার কনফারমেসন পেইজটাই কিন্তু প্রিন্ট করে নিয়ে যাবেন ইন্টার্ভিউর দিন।

US Point of Contact এই পয়েন্ট I-20 তে যে এড্রেস দেয়া আছে সেটা দিয়ে দিতে পারেন, সমস্যা নাই। কোন মিথ্যা তথ্য দিতে যাবেন না ভুলেও। ভিসা ইন্টার্ভিউর সময় কিন্তু অফিসার তার কম্পিউটারের সামনে আপনার পুরো ফর্মটাই দেখতে পারে। কাজেই খুব সাবধানে এটা পূরণ করবেন।

সাবমিট করলে কনফারমেশন পেজটা প্রিন্ট করে রাখুন। সামনে প্রিন্টার না থাকলে আপনার মেইলে পাঠিয়ে দিন(অপশন আছে), পরে প্রিন্ট করে নিলেই হবে।

৪। ভিসা ফি প্রদান:

ভিসা ফির জন্য ১২,৬৪০ টাকা লাগে। ফি দেবার জন্য প্রথমেই আপনাকে এই লিংকে গিয়ে আপনার ইমেইল (যেটা দিয়ে DS 160 ফিলাপ করেছেন) আর অন্যান্য তথ্য দিয়ে একটা একাউন্ট খুলতে হবে। আপনার SEVIS নং আর DS 160 এর কনফারমেশন নাম্বার দিন আর পর্যায়ক্রমে পেমেন্ট পেজে যান। সেখানে আপনাকে একটা ইউনিক CGI Reference নাম্বার দিবে আর একটা Expiration Date দিবে। আর টাকার এমাউন্টও লেখা থাকবে।

এবার ১টি কপি প্রিন্ট দিন আর ফিলাপ করে ফেলুন । এবার এক্সপায়ার ডেটের আগেই  Eastern Bank Limited ব্যাঙ্কের ৫০ টি সিলেক্টেড ব্র্যাঞ্চের যেকোনো একটিতে চলে যান। ‘ইউ এস ভিসা ফি দেব’ বললে ওরা একটা রসিদ দেবে। সেটা ফিল-আপ করে টাকা জমা দেন।

পেমেন্ট করলে আপনাকে একটা পেমেন্টের কপি সিল মেরে দিয়ে দিবে। সেটা সযত্নে রাখুন। পরদিন সকাল ৯ টার দিকে আপনার প্রোফাইল আপডেট হয়ে যাবে। ভিসা ফি জমা দেবার জন্য যে একাউন্ট আপনি খুলেছিলেন, ওইখানে গিয়ে আপনি ভিসা ইন্টার্ভিউর শিডিউল নিতে পারবেন।

অনেকেই একটা ব্যাপার নিয়ে বিভ্রান্ত হতে পারেন। ভিসা এপ্লিকেশন একাউন্টে লেখা থাকে যে “input the receipt no. to complete the application” ওখানে আপনাকে কিছু করতে হবে না। আপনি একটা মেইল পাবেন “আপনার পেমেন্ট কনফার্ম হয়েছে“। ওইসময় আপনার একাউন্ত চেক করলে দেখবেন ওটাও আপডেট হয়ে গেছে। শিডিউল করার পর কনফার্মেশন মেইলটা আপনাকে প্রিন্ট করে ভিসা ইন্টারভিউ এর সময় নিয়ে যেতে হবে।

 ভিসা ইন্টার্ভিউর দিন সাথে যা যা নিতে হবে:

১। ইন্টার্ভিউ Appointment letter(যেইটা মেইলে পাবেন, সেটার প্রিন্ট কপি)

২। আই-২০(অরিজিনাল কপি)

৩। সেভিস ফি কনফারমেসন পেইজ

৪। DS-160 ফর্ম কনফারমেসন পেইজ(লেজার প্রিন্ট)

৫। পাসপোর্ট

৬। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার

৭। এসএসসি, এইচএসসি( যদিও লাগার কোন কারন নেই)বিএসসি, এমএসসির সারটিফিকেট , ট্রান্সক্রিপ্ত

৮। GRE, TOEFL/IELTS স্কোর এর প্রিন্ট কপি

৯। ব্যাংক স্টেটমেন্ট (ফুল ফান্ডে লাগে না, তবুও সাথে রাখা ভাল)

১০। এমপ্লয়মেন্ট সার্টিফিকেট (যদি থাকে)

১১। ভিসা ফি পেমেন্ট স্লিপ( যেটা ব্যাংক থেকে পাবেন ফি জমা দেবার পর০

ভিসা ইন্টার্ভিউর প্রস্তুতি:

প্রস্তুতির কোন বিকল্প নেই। গুগল, ইউটিউবে সার্চ দিয়ে ইন্টার্ভিউর প্রশ্ন আর উত্তর সম্পর্কে ধারনা নিতে পারেন। যদিও আপনার আই-২০ তে যদি ফুল ফান্ডের কথা উল্লেখ থাকে এবং আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রহণযোগ্যতা মোটামুটি হলেও ভাল হয়, তাহলে আপনাকে আসলে কিছুই জিজ্ঞেস করবেনা সেইভাবে। কিন্তু সেলফ ফান্ডে একটু খোঁচাতে পারে। আপনার স্পন্সর কে, কি করে এসব তথ্য পরিষ্কারভাবে দিতে পারলে আর কাগজপত্র ঠিক থাকলে সমস্যা হয় না।

ভিসা ইন্টার্ভিউর ব্যাপারে একটা বিষয় নিশ্চিত, আপনার আই-২০ যত বেশি বোধগম্য হবে, অর্থাৎ আপনার ফিনান্সিয়াল সাপোর্ট যত ভাল হবে, আপনার ভিসা ইন্তারভিউ তততাই সহজ হবে।

Comments

comments