এই আর্টিকেলটি পড়ার পরিবর্তে ভিডিও থেকেও জেনে নিতে পারেন।

GRE, GMAT এসব সম্পর্কে আমার ধারণা বলতে গেলে শুন্য। আমাকে একদম সহজ ভাষায় এদের বিষয়টা বুঝিয়ে বলুন

একটা উদাহরণ দিয়েই শুরু করা যাক

মনে করি, বাংলাদেশে আপনি এসএসসি পাশ করে কলেজে ভর্তি হলেন, তারপর একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী পাশ করে এইচএসসি পরীক্ষাও শেষ করলেন। এ পর্যায়ে আপনার মোট বারো (১২) বছরের শিক্ষাজীবন শেষ হলো। আমেরিকান মাপকাঠিতে বলতে গেলে, আপনি হাই স্কুল শেষ করলেন। এবার আপনি নেমে পড়লেন বুয়েট, ঢাকা ভার্সিটি সহ দেশের সবগুলো ভালো ভার্সিটিতে ভর্তির প্রতিযোগিতায়। অর্থাৎ, আপনি আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে কোন ভার্সিটিতে ভর্তি হতে চান। বাংলাদেশে আমরা যাকে ভার্সিটির আন্ডার গ্র্যাজুয়েট লেভেলের ভর্তি বলি, আমেরিকায় ওরা এটাকে বলে “কলেজ অ্যাডমিশন”। লক্ষ্য করুন, কলেজ শব্দটির প্রচলিত অর্থ বাংলাদেশে ও আমেরিকায় কিন্তু আলাদা। যা হোক, বাংলাদেশে যেমন প্রত্যেক ভার্সিটি তার নিজের মতো করে ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করে এবং ওই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবার জন্য আপনাকে ভার্সিটির ক্যাম্পাসে সশরীরে উপস্থিত হতে হয়, আমেরিকায় এটা একটু ভিন্ন ভাবে ঘটে। ওদের একটা বোর্ড আছে, নাম হলো “কলেজ বোর্ড” যারা “এসএটি” নামে একটা পরীক্ষা নেয় সারা দুনিয়ার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে। ওই এসএটি পরীক্ষার স্কোরই আসলে আমেরিকান কলেজগুলোতে (মানে, আন্ডারগ্র্যাজুয়েট লেভেলের) অ্যাডমিশনের অন্যতম মানদণ্ড হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

এ তো গেল এসএটি এর কথা। ও হ্যা, এসএটি কে কিন্তু অনেকে “স্যাট” বলে উচ্চারণ করে, যা একটি বহুল প্রচলিত ভুল সম্বোধন। ঢাকা ভার্সিটিকে যেমন আমরা ডিইউ ডাকি, কিন্তু কারো মুখে “ডু” শুনলে একটু অবাক হই, এসএটি কে স্যাট বলাটাও অনেকটা সেরকম। তবে উচ্চারণে সুবিধার জন্য অনেক ক্ষেত্রেই এসএটিকে জেনেশুনে স্যাট বলে আমরা ডেকে থাকি। যাহোক, এসএটি লাগে হলো আন্ডারগ্র্যাজুয়েট লেভেলে ভর্তির জন্য। কিন্তু আপনি যদি মাস্টার্স অথবা পিএইচডি লেভেলে ভর্তি হতে চান, তাহলে যে পরীক্ষা লাগে সেটা হলো জিআরই অথবা জিম্যাট। উদাহরণ হিসাবে চিন্তা করুন, বাংলাদেশের যে কোন সাবজেক্টেই আপনি ব্যাচেলর পাশ করুন না কেন, আইবিএ তে এমবিএ কোর্স করতে হলে আপনাকে ওদের নিজেদের আয়োজিত একটা ভর্তি পরীক্ষায় বসতে হবে। জিআরই বা জিম্যাট হলো ঠিক সেরকমই মাস্টার্স লেভেলের পরীক্ষা। জিআরই, জিম্যাট, এসএটি এই পরীক্ষাগুলোকে সাধারণত: স্ট্যান্ডার্ড টেস্ট বলে। ঠিক কী কারণে স্ট্যান্ডার্ড টেস্ট বলে সে ব্যাপারে এক এক রকম মত আছে। তবে যেহেতু দুনিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে লেখাপড়া করে আসা এক এক ব্যাকগ্রাউন্ডের স্টুডেন্টদেরকে একটি অভিন্ন মানদণ্ডে মাপার পরীক্ষা বা স্ট্যান্ডারডাইজ করার পরীক্ষা, সে কারণেও এদেরকে এক সাথে স্ট্যান্ডার্ড টেস্ট বলা যেতে পারে।

 এসএটি পরীক্ষা হয় কাগজ কলমে। বাংলাদেশের তিনটি স্থানে (ঢাকায় নটরডেম কলেজ, আমেরিকান ইন্টা: স্কুল ও চট্টগ্রামে গ্রামার স্কুল) বছরের নির্দিষ্ট কতগুলো দিনে হয়। আর জিআরই বা জিম্যাট পরীক্ষা হয় সারা বছর জুড়েই, সপ্তাহের চার দিন, বনানীর অ্যামেরিকান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এ, দিতে হয় কম্পিউটারে। এ বিষয়ে আমরা এই পাতায় পরবর্তিতে বিস্তারিত আলোচনা করবো। এসএটি, জিআরই এবং জিম্যাটের প্রশ্নগুলো কিন্তু কোন নির্দিষ্ট সাবজেক্ট থেকে আসে না। যেমন, আপনি ডাক্তার বা কেমিক্যালি ইন্জিনিয়ার হবার কারণে যে বিশেষ সুবিধা পাবেন, তা কিন্তু না। প্রধানত: অংক এবং ইংরেজী থেকে প্রশ্ন আসে। সাথে যাচাই করা হয় আপনি কত দ্রুত কোন প্যাসেজ পড়ে অর্থ উদ্ধার করতে পারেন, এবং আপনার বিশ্লেষণী ক্ষমতা কেমন। অবশ্য এসএটি-১ এবং সাবজেক্ট জিআরই নামে ভিন্ন এক ধরণের পরীক্ষা আছে, যেগুলো হয় নির্দিষ্ট সাবজেক্ট (যেমন, পদার্থবিদ্যা) এর উপরে।

রত্নভাণ্ডারে ঢুকেই পড়েছেন

এই মুহূর্তে আপনি  জিআরই ও আমেরিকায় উচ্চশিক্ষার উপর বাংলা ভাষায় রচিত বিশ্বের সমৃদ্ধতম ওয়েবসাইটটি ভিজিট করছেন। উপরের সার্চ বারের মধ্যে জিআরই বিষয়ক কিছু লিখলেই দেখবেন প্রাসঙ্গিক আর্টিকেল এসে হাজির।

 

How pronounced

GRE is pronounced as G, R, E. Not as gray.

 

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>