১। কৈফিয়ৎঃ

অনেকে অভিযোগ করছেন আমি নাকি ভয় পাওয়াই দিছি। আমার জন্য গণিত পড়ার আশা মরে গেছে। যদি আশা মরে যায় তাহলে না পড়াই ভাল। গণিত পড়তে একটু ঘাড় ত্যাড়া হইতে হয়। এটা ঘাড় ত্যাড়া মানুষদের জন্য কিছু অভিজ্ঞতার শেয়ার। আপনি যদি অনেক জ্ঞানী বা তাত্ত্বিক বা নলা হয়ে থাকেন তাহলে এই লেখা আপনার জন্য না।

২। কি চানঃ

স্লাভো জিজ্যাক বলছেন আমরা আসলে যা চাই বলে মনেকরি সত্যিকার অর্থে আমরা তা চাই না। কথাটা কতটা সত্য মিথ্যা জানি না। তবু নিজের মোটিভেশন ভ্যারিফাই করা গণিতবিদের লক্ষণ। একটু ভাল করে চিন্তা করেন আপনি আসলে কি চান। পিএইচডি একটা লং প্রসেস। এতদিন ধৈর্য ধরে দেশের বাইরে এসে গণিতচর্চা একটু কঠিন। তার উপর মানুষ আপনার কথা বুঝবে না। ইত্যাদি ইত্যাদি।

৩। আপনি রেডি তোঃ

আপনার গণিতের বেসিক সাবজেক্টগুলার উপর কিছু দখল লাগবে। এগুলো হল ক্যালকুলাস, লিনিয়ার অ্যালজেব্রা, রিয়াল অ্যানালাইসিস, কিছুটা কমপ্লেক্স অ্যানালাইসিস, অ্যাবস্ট্রাক্ট অ্যালজেব্রা এবং জেনারেল টপোলজি। শুধু কনসেপ্ট জানলেই হবে না, এগুলো অ্যাপ্লাই করে প্রব্লেম সলভ করার প্রাকটিস লাগবে। এইটুকু তৈরি হয়েই এখানে পিএইচডি করতে আসে সবাই। আপনি না আসলে সাফার করবেন। হয়ত টিকতে পারবেন না। এজন্য সাবজেক্ট জিআরই দাওয়া খুব উপকারের। আপনি কিছুটা রেডি হবেন।

৪। কি পড়তে চানঃ

আপনি কোন সাবজেক্ট পড়তে চান সেটা জানা থাকা দরকার। সেই সাবজেক্ট পড়তে আন্ডারগ্রেডের যেসব নলেজ লাগে সেগুলো ঠিকঠাক আছে কিনা দেখে নিবেন। না থাকলে ঠিক করে ফেলেন এখনই।

৫। পরীক্ষাঃ

জিআরই, টোফেল (কিছু স্কুল আই-ই-এল-টি-এসও নেয়) না দিলে কোথাও আসতে পারবেন না। এগুলো মাস্ট। ভয় পেয়ে পরীক্ষা পিছাবেন না। যা হয় হবে বলে স্রষ্টার নামে ঝাঁপায় পড়বেন। তবে ঝাপ দাওয়ার আগে সুইমিং পুলে ট্রায়াল দিয়ে নিবেন, মানে মক টেস্ট।

৬। অ্যাপ্লাইঃ

অ্যাপ্লাই করার সময় দেখবেন আপনি যা পড়তে চান সেটা পড়ানোর মত কেউ ওই ডিপার্টমেন্ট আছে কি না যে পিএইচডি স্টুডেন্ট নিতে আগ্রহী। ওয়েবসাইট দেখে বিলা হয়ে যাইয়েন না। ওয়েবসাইট সত্য কথা বলে না। গ্র্যাজুয়েট ডিরেক্টরকে সরাসরি ইমেইল করে জানবেন। সব ঠিকঠাক হলে অ্যাপ্লাই করবেন। কারণ অ্যাপ্লাই করতেও মেলা খরচ।

৭। রিটেন কোয়ালিফাইয়িংঃ

প্রথম দুই বছর বা তিন বছরে আপনাকে সবগুলো রিটেন কোয়ালিফাইয়িং পাস করতে হবে। পাস করতে না পারলে ব্যাক টু দ্য প্যাভিলিয়ন। অতএব এসে আপনার প্রথম কাজ হচ্ছে কোয়ালিফাইয়িং পাস করা। দিস ইজ নট ইজি, ডিউড!

 

এরপর আরো স্টেপ আছে যেগুলো আমি এখনো পার করিনি। করতে পারলে হয়ত জানাব আপনাদের। আপাতত এই পর্যন্তই। আপনাদের হতাশ করে থাকলে আমি দুঃখিত। তবে আমেরিকা এসে ফিরে যাওয়া থেকে এই পোস্ট পড়ে ফিরে যাওয়া ভাল। অন্তত দেশে ভাল কিছু করতে পারবেন। অনেকে বিদেশে যাওয়ার আশায় সময় নষ্ট করতে করতে দেশের ভাল সুযোগগুলোও (যেমন বিসিএস) মিস করে। এমন যেন না হয়।

Comments

comments