toefl-ielts

[alert style=”danger”]টোফেল নাকি আয়েল্টস? কোনটি তুলনামূলক সহজ? হায়ারস্টাডি যাত্রায় এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনেকেই দ্বিধাদ্বন্দে পড়ে যান। উত্তর আমরা খুঁজবো, তবে উত্তরটি জানার জন্য আপনাকে লাস্ট পর্যন্ত পড়ে যেতে হবে।[/alert]

আয়েল্টস ও টোফেল উভয়ই ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্ট বা ভাষাগত দক্ষতা যাচাইয়ের পরীক্ষা। আয়েল্টস বিট্রিশ স্ট্যান্ডার্ড এবং টোফেল আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে।

এখন কথা হচ্ছে কোন পরীক্ষাটি আপনার জন্য সহজ হবে? এ প্রশ্নের উত্তর জানার আগে আপনাকে সেকশনগত কিছু পার্থক্য পর্যালোচনা করা যাক।

[alert style=”danger”]লিসেনিং সেকশন:[/alert]

এই সেকশনে উভয়ই পরীক্ষাতেই অডিও টেপ শোনানো হবে।

১। কথার টোন:

  • টোফেল: এখানে সরাসরি আমেরিকান কোন ক্লাস/একাডেমিকের সাথে জড়িত কোন বিষয়ের অডিও সরাসরি বাজানো হবে। যে কারনে অ্যাকসেন্টের দিক থেকে চিন্তা করলে টোফেলের অডিও বুঝা তুলনামূলক সহজ।
  • আয়েল্টস: এখানে ক্লাস লেকচার, দোকানির সাথে কোন বয়স্ক লোকের সাক্ষাৎকার থেকে শুরু করে টেলিফোন আলাপ পর্যন্ত শোনানো হতে পারে। যদিও অ্যাকসেন্ট হিসেবে বিট্রিশ অ্যাকসেন্ট অনুসরণ করা হয়। তবে অ্যাকাডেমিকের বাইরে হওয়ায় এবং কথার মাঝে আঞ্চলিকতার টোন থাকায় অনেকের জন্য বুঝতে সমস্যা হতে পারে। সেদিক থেকে আয়েল্টেস পিছিয়ে।

২। ইনফারেন্স: ইনফারেন্স মানে হচ্ছে কোন একটা প্রশ্ন সরাসরি উত্তর না চেয়ে একটু বুদ্ধি খাটিয়ে উত্তর খোঁজার দরকার হবে।

  • টোফেল: এখানে সরাসরি অডিও টেপের বাইরেও ইনফারেন্স ধরণের প্রশ্ন বেশি থাকবে। যে কারনে যাদের লিসেনিং এবং অ্যানালাইসিস করতে ভয় পান তাদের জন্য এটা কঠিন মনে হবে। আগে থেকে প্রিন্ট করা কোন ঘটনাপঞ্জি দেওয়া হয় না, টেপ চলাকালীন আপনাকে দরকারি নোট নিতে হবে।
  • আয়েল্টস: সব প্রশ্নই অডিও টেপ থেকে সরাসরি থাকবে। তাই মনোযোগ দিয়ে শুনলে সব প্রশ্নই উত্তর করা সম্ভব। আর আপনাকে আয়েল্ট পরীক্ষা নোট করার জন্য পুরো ঘটনার ঘটনাপঞ্জি বা রাফ শীট আগেই সরবরাহ করা হবে। যেখানে টেপ শুনে শুনে আপনাকে আনসার টুকে নিতে হবে। তাই আয়েল্টস লিসেনিং তুলনামূলক সহজ মনে হতে পারে।

লিসেনিং সেকশনের বিচারে আপাতত আয়েল্টসকেই এগিয়ে রাখা যাচ্ছে। তবে আপনার যদি আঞ্চলিক ইংলিশ বুঝতে সমস্যা হয় সেক্ষেত্রে টোফেল পরীক্ষায় বসা শ্রেয়।

[alert style=”danger”]রিডিং সেকশন:[/alert]

উভয়ই পরীক্ষায় এই সেকশনের কঠিনতা অনেকটা কাছাকাছি পর্যায়ের। প্যাসেজ লেন্থের বিচারের দুটি কাছাকাছি।

১। ভোকাবুলারি:

  • টোফেল: প্যাসেজে অল্প কিছু অজানা শব্দ থাকতে পারে।
  • আয়েল্টস: অজানা শব্দের ফ্রিকোয়েন্সি টোফেলের তুলনায় কম।

২। ইনফারেন্স:

  • টোফেল: কিছু প্রশ্ন ভাবগত তথ্য খুঁজতে বলতে পারে। যেটা অনেকের কাছে কঠিন মনে হতে পারে।
  • আয়েল্টস: সরাসরি প্যাসেজ থেকে প্রশ্ন আসে। ইনফারেন্স ধরণের প্রশ্ন নেই বললেই চলে।

ইনফারেন্সের ঝামেলা নেই বলে রিডিং সেকশনে আয়েল্টসকেই এগিয়ে রাখা যাচ্ছে।

[alert style=”danger”]রাইটিং সেকশন:[/alert]

১। অডিও টেপ এবং প্যাসেজ: টোফেল এবং আয়েল্টসে দুইটি করে রাইটিং থাকলে টোফেলে কিছুটা ব্যতিক্রম আছে।

  • টোফেল: নামে রাইটিং হলেও আপনাকে অডিও টেপ শুনতে হবে এবং প্যাসেজ পড়তে হবে, নোট নিতে হবে। এই নোটের আলোকে লেখা দাঁড় করাতে হবে।
  • আয়েল্টস: আয়েল্টস রাইটি মানে শুধুই রাইটিং। কোন অডিও শোনা এবং প্যাসেজ পড়ার দরকার হবে না।

যদিও সব ধরণের রাইটিং এ নোট নেওয়া জরুরি। তবে টোফেলের মতো আয়েল্টসে বিশেষ নোট [প্যাসেজ পড়ে এবং অডিও শুনে] নেই বলে আয়েল্টস রাইটিং কে এক্ষেত্রে এগিয়ে রাখা যায়।

[alert style=”danger”]স্পিকিং সেকশন:[/alert]

১। মানুষ বনাম কম্পিউটার: টোফেল শুধুমাত্র কম্পিউটারের সাথে কনভার্স করতে হবে। অন্যদিকে আয়েল্টস পরীক্ষায় একজন উপস্থিত ব্যক্তির সামনে কথা বলতে হবে।

  • টোফেল: ৬টি সেকশন থাকে। যেখানে অডিও টেপ শুনে এবং নোট নিয়ে সাজিয়ে কথা বলতে হবে।
  • আয়েল্টস: ৩টি সেকশন থাকে। যেখানে এক্সামিনার আপনাকে প্রশ্ন করবেন এবং আপনাকে সে আলোকে উত্তর দিতে হবে।

ডিফিকাল্টি লেভেলের বিচারে স্পিকিং সেকশনকে উভয় পরীক্ষাকেই সমান সমান ধরা যায়।

[alert style=”danger”]এবার সিদ্ধান্তের পালা:[/alert]

  • লিসেনিং: আয়েল্টস এগিয়ে।
  • রিডিং: সমান সমান।
  • রাইটিং: আয়েল্টস এগিয়ে।
  • স্পিকিং: সমান সমান।

কাজেই আয়েল্টসকে আপাতদৃষ্টিতে টোফেলের থেকে কিছুটা সহজ মনে হতে পারে। তবে মনে রাখা ভালো এই জাজমেন্ট ব্যক্তিগত পারফমেন্স অনুযায়ী তারতম্য ঘটতে পারে।