আয়েল্টস (IELTS) টেস্টের যে অংশটি নিয়ে যেকোন পরীক্ষার্থীর সবথেকে বেশি দু:শ্চিন্তা থাকে তা হলো স্পিকিং সেকশন। আর অধিকাংশ পরীক্ষার্থীই বিশেষ করে অন্য সেকশনের তুলনায় অর্থাৎ রিডিং, রাইটিং এবং লিসেনিংয়ের চেয়ে এই সেকশনটিতে তুলনামূলক ভাবে স্কোর কম পেয়ে থাকে। আর স্কোর কম পাওয়ার ফলে কমে যায় ওভারঅল ব্যান্ড স্কোর। তাই অন্য সেকশনের তুলনায় এই সেকশনটিতে ভাল করতে পারলে ব্যান্ড স্কোর আরও ভাল করা যায়।

[alert style=”success”]আয়েল্টস টেস্টের স্পিকিং পার্টে ভাল করতে হলে আগে জেনে নিতে হবে যে, কি কি বিষয়ের উপর স্পিকিং সেকশনের নাম্বার নির্ভর করে থাকে। অর্থাৎ আয়েল্টস ইন্টারভিউয়ে কোন বিষয়গুলোতে মার্কিং করা হয়। আর এই বিষয়গুলোতে নিজের দক্ষতা বাড়াতে পারলে নি:সন্দেহে এই সেকশনটিতে নাম্বার বাড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।[/alert]

আয়েল্টস স্পিকিংয়ের প্রতিটি সেকশন সম্পর্কে ধারনা নিতে পারেন [button size=”large,small,mini” color=”teal” url=”http://hsa.grecbd.com/ielts-speaking-tests-format/” target= “_blank”]এই আর্টিকেল[/button] থেকে।

যে সকল বিষয়ের উপর স্পিকিং টেস্টের স্কোর নির্ভর করে

আপনি যখন ইন্টারভিউ বোর্ডে কথা বলছেন তখন সেই ইন্টারভিউয়ারের সাথে আপনার সকল কনভার্সেনই রেকর্ড করা হবে। যা পরবর্তীতে ২ জন ইংলিশ স্পিকার বাজিয়ে শুনে থাকেন এবং স্কোর প্রদান করেন।

আয়েল্টস স্পিকিং সেকশনে ৪টি বিষয়ের উপর মার্কিং করা হয়। অর্থাৎ পরীক্ষার্থীর ইন্টারভিউয়ে কথা বলার সময় ৪টি বিশেষ দিকের প্রতি লক্ষ্য রেখে ব্যান্ড স্কোর দেয়া হয়। এগুলো হল:

  • কথায় সাবলিলতা এবং সঙ্গতি: আপনি যখন ইন্টারভিউ রুমে কথা বলছেন তখনে আপনি কতটা স্বাভাবিকভাবে কথা বলছেন। অর্থাৎ আপনি কথা বলতে অভ্যস্ত বা নরমাল কিনা। এক্ষেত্রে আপনি যখন কথা বলছেন তখন আপনার কথার স্বাভাবিকতা বা সাবলিলতা কতটুকু তা পরখ করে দেখা হয়। এর পাশাপাশি আরেকটি যে বিষয়ে লক্ষ্য করা হয় তাহল, আপনি যে টপিকের উপর কথা বলছেন তার যথার্থতা বা প্রশ্নের সাথে তা কতটা সঙ্গতিপূর্ণ। অর্থাৎ আপনি প্রশ্নের সাথে মিল রেখেই উত্তর দিচ্ছেন নাকি মূল বিষয় বুছতে না পেরে আশপাশের টপিকে নিয়ে কথা বলছেন। একে বলা হয় Fluency and coherence।
  • শব্দ ভাণ্ডার: আপনি যখন ইংরেজিতে কথা বলছেন তখন আপনার শব্দ প্রয়োগের উপর স্কোর নির্ভর করবে। অর্থাৎ আপনি কোন টপিকের উপর কথা বলার সময় যে শব্দ ব্যবহার করছেন তা কতটা আলাদা বা একটু বহুল প্রচলিত শব্দের বাইরে সমার্থক কোন শব্দ। অর্থাৎ, কোন একটি প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সময় কিংবা কোন টপিককে ব্যাখ্যা করার জন্য আপনি যে শব্দগুলো ব্যবহার করছেন তা সৌন্দর্য্যতার উপর স্কোর রয়েছে। একে বলা হয় Lexical resource।
  • ইংরেজি ব্যকরণ প্রয়োগের সক্ষমতা: স্পিকিং সেকশনে আরেকটি যে বিষয়ের উপর স্কোরিং করা হয় তা হল ইংলিশ ব্যকরণের প্রয়োগ এবং ব্যবহার। অর্থাৎ আপনি ইন্টারভিউ রুমে কথা বলার সময় ইংলিশ গ্রামারের প্রয়োগ করছেন কিনা এবং করলে সঠিক হচ্ছে নাকি হচ্ছে না। তা যাচাই করা হবে। একে বলা হয় Grammatical range and accuracy. যার উপর স্পিকিং সেকশনের নাম্বার নির্ভর করে।
  • শব্দ উচ্চারণ: স্পিকিং টেস্টের আরেকটি যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর স্কোর নির্ভর করে তাহল ইংলিশ শব্দের উচ্চারণ। আপনি কোন ভঙ্গিতে উচ্চারণ করছেন এবং তা সঠিক হচ্ছে কিনা তা দেখা হবে। একে বলা হয় Pronunciation.

স্পিকিং সেকশনের টপ টিপস্

টপ টিপস্ ১:

অন্যের উপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজে নিজেই ইংরেজিতে কথা বলার প্রাকটিস শুরু করুন। এক্ষেত্রে কোন নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে একা একা কথা বলতে পারেন। মনে মনে বিরবির করা যেতে পারে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারেন। এতে করে আপনার প্রাকটিসটা অন্তত বন্ধ হয়ে থাকবে না।

এমনটা অনেকের ক্ষেত্রেই হয় যে, ইংরেজিতে কথা বলার প্রবল ইচ্ছা রয়েছে। কিন্তু কোন সঙ্গী না পেয়ে আর প্রাকটিস করা হয় না। তবে অন্যের অপেক্ষায় থেকে সময় নষ্ট না করে প্রথম উদ্যোগটা নিজেরই নেয়া উচিত।

স্পিকিং প্রাকটিসের জন্য অংশ নিতে পারেন গ্রেকের ফ্রি ‘চ্যাটিং ক্লাবে’। এখানে আপনার ইংলিশ স্পিকিংকে গাইড করবে আমাদের ইংলিশ ট্রেইনার। বিস্তারিত [button size=”large,small,mini” color=”red” url=”http://hsa.grecbd.com/grec-chatting-club/” target= “_blank”]এখানে[/button]

টপ টিপস্ ২:

নিজে নিজে ইংলিশ স্পিকিং প্রাকটিসের জন্য সব থেকে ভাল এবং ইফেক্টিভ হচ্ছে রেকর্ডার ডিভাইস ব্যবহার করা। নির্দিষ্ট কোন টপিকের উপর নিজেই কথা বলে তা রেকর্ড করে পরবর্তীতে নিজেই শোনা এবং কোন দিকে নিজের আরও উন্নতি করার সুযোগ রয়েছে তা খুঁজে বের করা। এক্ষেত্রে রেকর্ডার ডিভাইস কিংবা মোবাইল ফোনেও কথা রেকর্ড করা যায়।

টপ টিপস্ ৩:

কাছের কোন বন্ধু কিংবা আপনার মতো শীঘ্রই আয়েল্টস টেস্ট দিবে অথবা এমন কেউ থাকলে তাকে খুঁজে বের করুন। যার বা যাদের ইংরেজিতে কথা বলার ইচ্ছা রয়েছে এমন কয়েকজন মিলে ইংলিশ স্পিকিংয়ের প্রাকটিস করতে পারেন।

টপ টিপস্ ৪:

নিজের কথা বলার ভঙ্গি এবং শব্দের উচ্চারণ কেমন হচ্ছে তা যাচাই করার জন্য আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলুন। এতে করে নিজেকে সেই ইন্টারভিউয়ার চিন্তা করুন এবং আপনার মানুষটিকে পরীক্ষার্থী। নিজেই প্রশ্ন করে নিজেই সুন্দরভাবে উত্তর করার চেষ্টা করুন। এতে করে নিজেকে উপস্থাপন করার যে বিষয়টি রয়েছে তা আরও সুন্দর হবে।

টপ টিপস্ ৫:

বেশি বেশি ইংলিশ স্পিকিং করতে হবে। কারন এই বিষয়টি সম্পূর্ণ ভাবেই প্রাকটিসের উপর নির্ভরশীল। তাই এর কোন বিকল্প নেই।

টপ টিপস্ ৬:

ছোটদের গ্রামারের বই পড়ুন। সেখানে গ্রামারের অনেক খুঁটিনাটি বিষয় শিখতে পারবেন যা এতো বছরে আপনি হয়তো ভুলেই গেছেন। এছাড়াও Tense সম্পর্কে ভাল ধারনা রাখতে হবে এবং তার যথার্থ প্রয়োগ করতে হবে।

টপ টিপস্ ৭:

নিজের ইংরেজি শব্দের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করুন। যেমন- একই শব্দের বার বার ব্যবহারের চেয়ে সমার্থক শব্দের (Synonymous Word) ব্যবহার করা ভাল।  phrases and idioms এর ব্যবহার করা। এছাড়াও কথা বলার সময় সুযোগ থাকলে বিভিন্ন প্রবাদ (Proverb) এর ব্যবহার করতে পারেন।

টপ টিপস্ ৮:

কোন জটিল কিছু ভাবার দরকার নেই। ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার দিন সিম্পল ভাবে যান। সব কিছু সাধারণভাবে চিন্তা করুন। এবং ইন্টারভিউয়ারকে বন্ধু মনে করে কথা বলুন। আর ভাল একজন প্রেজেন্টারের গুণ তুলে ধরুন। গুণটি কি তা জানা আছে কি?

ভাল একজন প্রেজেন্টার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তিনি যখন স্টেজে ওঠেন তখন দর্শকদের সামনে তারও ভয় লাগে। কিন্তু তিনি এতোটা আত্মবিশ্বাসী ভাব তাদের সামনে উপস্থাপন করেন যা দেখলে কেউ বুঝতেই পারে না তার মনের ভেতর ভয় অনুভূত হচ্ছে কিনা।

ইন্টারভিউ রুমে ঘাবড়ে না গিয়ে বরং ভয়কে মনের ভেতর রেখে আত্মবিশ্বাসী মনোভাবকে বাইরে বের হতে সুযোগ করে দিন।

টপ টিপস্ ৯:

নিয়মিত বিবিসি এবং সিএনএন এর খবর দেখতে এবং শুনতে হবে। দেশীয় ইংরেজি পত্রিকাগুলো নিয়মিত পড়ে চর্চা করুন। আর ইংলিশ রিডিং পড়ার সময় তা অবশ্যই শব্দ করে পড়বেন যাতে তা আপনার কানে আসে এবং বুঝতে পারেন উচ্চারণটি সঠিক হচ্ছে কিনা। ইংরেজি শব্দ সঠিক ভাবে উচ্চারণ করার জন্য এগুলো সহায়ক হতে পারে।

টপ টিপস্ ১০:

সবশেষে সাবটাইটেল দিয়ে ইংরেজি মুভি দেখুন। কথা বলার ভঙ্গিটা আত্মস্থ করার চেষ্টা করুন। এছাড়াও ইউটিউব থেকে ভিডিও দেখা যেতে পারে।

সর্বোপরি প্রাকটিসের সময় সংকোচ এবং লজ্জা -এই দুটি জিনিস নিজের থেকে ১০০ হাত দূরে রাখুন।