এই আর্টিকেলটি পড়ার পরিবর্তে ভিডিও থেকেও জেনে নিতে পারেন।

Topic-Summaryএখন না পরে, পরে না আরো পরে! আমাদের দেশের হায়ারস্টাডি অ্যাস্পিরেন্টদের একই সাথে খুবই কমন ও মধুর সমস্যা। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই ভাবনা চিন্তায় উচ্চ শিক্ষার জন্য সুদুর চীন দেশে [তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়া] যাওয়ার জন্য পরিকল্পনা মাথায় ঘুরপাক খেলেও সময়ের হিসাব মেলাতে না পারায় এই স্বপ্ন মাঠে নামার আগেই মারা যায়।

cshelogo

সত্যিকার অর্থেই যদি উচ্চ শিক্ষায় আগ্রহ থাকে তাহলে আজ না কাল, কাল না পড়শু -এই ধাঁধাচক্র থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

ধরা যাক আপনি ২০১৯ সালের ফল সেমিষ্টারের (August-September) জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে চাচ্ছেন। আপনাকে তাহলে এর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালের শুরুর দিকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পরিকল্পনা সাজাতে হবে। টাইমলাইন হিসেবে করে কাগজে কলমে ছক আকঁতে হবে। অভিজ্ঞ কিংবা জানাশুনা কারো জন্য এ কাজ যতটাই না সহজ, একজন আগন্তুকের এ কাজ ততটাই কঠিন।

[alert style=”success”]March-July 2018:[/alert]

১. জিআরই প্রস্তুতি:

মার্চ শুরু হওয়া মাত্র জিআরই এর জন্য মাঠে নেমে পড়তে হবে। বিশ্ববিদ্যারয় পড়ুয়া কিংবা সদ্য পাশ করাদের জন্য সবচেয়ে ভালো হয় নিজে নিজের স্টাডি টাইমলাইন সাজানো। যতটা পারা যায় পড়াশুনার জন্য সময় বরাদ্ধ রাখতে হবে। যত বেশি সময় বরাদ্ধ রাখা যায় ততো ভালো। প্রস্তুতি ততো ভালোভাবে নেওয়া যাবে। চাকুরীজীবি অথবা কর্মজীবিদের জন্যও একই রকম পরিকল্পনা নিতে হবে। পড়াশুনার জন্য যতটা পারা যায় সময় বের করতে হবে।

কিভাবে প্রস্তুতি নিবেন? জিআরই প্রস্তুতি সম্পর্কে যাদের আগাম ধারণা আছে তারা চাইলে নিজের মতো করে প্রস্তুতি শুরু করতে পারেন। যাদের ধারণা একেবারেই নেই কিংবা ঘাটতি আছে তারা প্রস্তুতির জন্য আমাদের ওয়েব সাইটের জিআরই প্রস্তুতি এবং দরকারি বই সমাচার আর্টিকেলটি গাইড/সিলেবাস হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

২. জিআরই মডেল টেস্ট-১ম ধাপ:

প্রস্তুতির শেষ দিকে আপনি কতখানি প্রস্তুত সেটা আঁচ করার জন্য একটি বা দুইটি মডেল টেস্ট দিতে পারেন। আশানুরূপ স্কোর হওয়া মাত্র জিআরই রেজিস্ট্রেশন করে নিতে পারেন। অন্যদিকে স্কোর মন মতো না আসলে প্রস্তুতি আরো কিছুদিন বর্ধিত করতে পারেন।

কোথায় এবং কিভাবে? অনলাইনে অনেক ফ্রি মডেল টেস্ট পাওয়া যায় যা আপনি দিতে পারেন। তবে এগুলোর মান খুব একটা আশানুরূপ হবে না। ফ্রি রিসোর্সের মধ্যে ইটিএস পাওয়ার প্রেপ-১ এবং পাওয়ার প্রেপ-২ এই দুইটি তুলনামূলক মানসম্মত। সে কারনে সম্ভব হলে ম্যানহাটনের পেইড মডেল টেস্ট আপনি চাইলে কিনে দিতে পারেন। কিন্তু দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় তা অনেকের নাগালের বাইরে থাকে। তবে বাংলাদেশের মধ্যে ব্রতী প্রতিষ্ঠান গ্রেকে অনেক সাশ্রয়ী খরচে ৬টি ফুল লেন্থের জিআরই মডেল টেস্ট দেওয়ার সুবিধা দিয়ে থাকে।

৩. জিআরই রেজিস্ট্রেশন:

বাংলাদেশে পরীক্ষার্থীর সংখ্যার অনুপাতে সবগুলো ভেন্যু মিলিয়ে আসন সংখ্যা সীমিত। ভরা মৌসুমে এ পরিস্থতি আরো ভয়াবহ। নিজের পছন্দমতো আসন পাবার জন্য  যে দিনে জিআরই পরীক্ষা দিতে চাচ্ছেন তার নূন্যতম এক থেকে দেড় মাস আগে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।

৪. জিআরই মডেল টেস্ট-২য় ধাপ:

প্রস্তুতির শেষ প্রান্তে এসে যতোবেশি সম্ভব মডেল টেস্ট দিতে হবে। নিজের প্রস্তুতি শাণিয়ে নিতে হবে। ভালো স্কোর করার অন্যতম উপায় হতে পারে মডেল টেস্ট। এর বাইরে আসল পরীক্ষার আবহ বুঝার জন্যও সহায়ক হবে। পরীক্ষার হলে মানিয়ে নিতে কাজে আসবে।

৫. টোফেল রেজিস্ট্রেশন:

আসন পাওয়ার দিক থেকে জিআরই থেকেও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক টোফেল। সে কারনে জিআরই রেজিস্ট্রেশনের পর পরই টোফেল রেজিস্ট্রেশনের কাজ সেরে নিতে হবে।

৬. প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই:

জিআরই এবং টোফেল উভয় ক্ষেত্রেই ৪টি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনামূল্যে নিজের স্কোর পাঠানোর সুযোগ থাকে। সে কারনে পরীক্ষায় বসার আগে নিজের জিআরই স্কোর কেমন আসতে পারে এবং অধ্যায়ণের বিষয়ের সাথে মিল রেখে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা প্রস্তুত রাখা উচিত।

৭. জিআরই পরীক্ষা:

বাকি সব প্রক্রিয়া যথা সময়ে শেষ করার জন্য জিআরই পরীক্ষা যথা সম্ভব আগে দেওয়া উচিত। বেশি আগে সম্ভব না হলেও চেষ্টা রাখতে হবে জুন-জুলাইয়ের মধ্যে পরীক্ষায় বসার।

[alert style=”success”]August 2018:[/alert]

১. টোফেল পরীক্ষা:

জিআরই পরীক্ষার ১-২ সপ্তাহের মধ্যে অর্থাৎ জুলাইয়ের শেষ ভাগ থেকে আগস্টের শুরুর দিকে টোফেল পরীক্ষায় বসা উত্তম।  তবে চেষ্টা রাখতে হবে সর্বোচ্চ তিন সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষায় বসার। অন্যথায় পরবর্তী ধাপের টাইম টেবিল পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে।

২. বিশ্ববিদ্যালয় খোঁজা:

জিআরই টোফেল শেষ করার পর পরই বিশ্ববিদ্যালয় খোঁজার কাজে নেমে পড়তে হবে। জিআরই স্কোর, টোফেল স্কোর এবং আপনার অধ্যায়ণরত বিষয়ের সাথে মিল রেখে খোঁজাখুঁজি করা উত্তম। ধরা যাক আপনার জিআরই স্কোর ৩১০, তাহলে আপনাকে ৩০০ থেকে ৩০৫ এই জিআরই স্কোর চাচ্ছে এরকম বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করতে হবে। চাইলে ৩১০ স্কোরের বিশ্ববিদ্যালয় খোঁজ করতে পারেন তবে সেক্ষেত্রে আপনার অ্যাডমিশনি এবং ফান্ডিং পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।

সবচেয়ে ভালো উপায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম (আপনার বিষয় অনুসারে), নূন্যতম যোগ্যতা (জিআরই, টোফেল স্কোর), ডেডলাইন ইত্যাদি লিখে এক্সেল ফাইল অনুসারে সাজিয়ে রাখা।

[alert style=”success”]September-December 2018:[/alert]

১. প্রফেসরের সাথে যোগাযোগ:

বিশ্ববিদ্যালয় খোঁজার পর পরই দেখতে হবে প্রফেসরের সাথে আপনার প্রোফাইল কতোখানি মিলে। যে প্রফেসরের সাথে আপনার প্রোফাইলের মিল থাকবে, বুঝতে সেসব প্রফেসর আপনার জন্য পটেনশিয়াল প্রফেসর। কাজেই অন্য আর একটি এক্সেল ফাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের পাশে পটেনশিয়াল প্রফেসরদের তালিকা রেখে দিতে পারেন। পরবর্তীতে এই তালিকা অনুযায়ী আপনি প্রফেসরকে মেইল করা শুরু করতে পারেন।

২. SOP প্রস্তুত করা:

বিশ্ববিদ্যালয়, সাবজেক্ট এবং প্রফেসর- এই তিনটি জিনিসের সন্ধান পাওয়ার পর পরই আপনার কাজ হবে Statement of Purpose (SOP) প্রস্তুত করা। যারা একাধিক বিষয়ের জন্য আবেদন করবেন তাদের অবশ্যই ভিন্ন ভিন্ন প্রফেসর এবং সাবজক্টের জন্য আলাদা SOP লিখতে হবে। ভুলেও কপি পেস্ট করা যাবে  না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। ইংরেজি বানান এবং গ্রামারের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

৩. LOR প্রস্তুত করা:

SOP এর মতোই Letter of Recommendation (LOR) অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রফেসর, প্রজেক্ট সুপারভাইজার অথবা ডিপার্টমেন্টের প্রধাণের কাছ থেকে এই লেটার সংগ্রহ করতে পারবেন।

মনে রাখা ভালো অনেক বিশ্ববিদ্যালয় কাগজে LOR এর বদলে অনলাইনে FOR চাইতে পারে।

৪. বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন:

ব্যাটে বলে মিলে গেলে এবং প্রফেসরের কাছ থেকে গ্রীণ সিগন্যাল পেলে কোনো চিন্তা ভাবনা না করে সরাসরি আবেদন করে দিতে পারেন।

৫. ডকুমেন্টস পাঠানো:

আবেদনের সাথে দরকারি ডকুমেন্টস, যেমন- জিআরই ASR, টোফেল ASR, ট্রান্সক্রিপ্ট, SOP, LOR ইত্যাদি সঠিক সময়ে পাঠানো দরকারী।

[alert style=”success”]January-April 2019:[/alert]

১. অ্যাডমিশন অফার:

আবেদন পাঠানোর পরের কাজ অপেক্ষা করা। প্রফেসরের সাথে হাই-হেলো করা। সাধারণত ডেডলাইনের অনেক আগেই কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাডমিশন অফার লেটার দিয়ে থাকে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ডেডলাইন পর্যন্ত অপেক্ষা করে।

২. ফান্ডিং অফার:

অ্যাডমিশন অফারের পরের কাজ প্রসেরের সাথে যোগাযোগ করা। ফান্ডিং এর বিষয় নিয়ে আলোচনা করা। অনেক ক্ষেত্রে অ্যামিডশন অফারের সাথে ফান্ডিং প্রাপ্তির অফার চলে আসতে পারে। সেক্ষেত্রে নতুন করে প্রফেসরকে ফান্ডিং এর জন্য আলাদাভাবে নক করার প্রয়োজন হয় না।

৩. আই-২০:

সব দেন-দরবার কিছু ঠিক থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আপনার নামে একটি আই-২০ প্রস্তুত করবে। যেখানে আপনার আনুষঙ্গিক খরচপাতি এবং খরচপাতির উৎস উল্লেখ থাকবে।

অনেক সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইমেইল করে সফট কপি পাঠিয়ে থাকে। কিছু ক্ষেত্রে ভিসা অ্যাম্বেসি মুখোমুখি হওয়ার জন্য অরিজিনাল কপি দরকার হয়, যা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আপনাকে কুরিয়ার যোগে পাঠাবে

[alert style=”success”]May-August 2019:[/alert]

১. সেভিস ফি:

আই-২০ হাতে পাবার পর অ্যাম্বেসির মুখোমুখি হবার আগে আপনাকে সেভিস ফি প্রদান করতে হয়।  মনে রাখা ভালো ভিসা ইন্টারভিউ মুখোমুখি হবার কপক্ষে ৩ দিন আগে সেভিস ফি প্রদান করা থাকতে হবে।

২. ভিসা আবেদন:

সেভিস ফি হয়ে যাওয়ার পর পরই [button size=”large,small,mini” color=”purple” url=”https://ceac.state.gov/genniv/” ]DS 160 ফর্ম[/button] ফিলাপ করতে হবে। এরপর [button size=”large,small,mini” color=”purple” url=”https://cgifederal.secure.force.com/?language=English&country=Bangladesh” ]APPLY FOR A U.S. VISA[/button] এখানে গিয়ে আপনাকে ভিসা অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে নির্দিষ্ট স্লিপ দেখিয়ে ইস্টার্ন ব্যাংকের ৫০ টি নির্ধারিত শাখায় জমা ভিসা ফি জমা দিতে পারবেন। ভিসা জমা শেষে অনলাইন প্রোফাইলে ঢুকে আপনার মতো করে ভিসা ইন্টারভিউয়ের জন্য সময় নিয়ে নিতে হবে।

৩. ভিসা প্রাপ্তি:

সফলভাবে ভিসা ইন্টারভিউ হয়ে গেলে ভিসা কর্তৃপক্ষ আপনাকে ভিসা প্রদান করবে। পরবর্তীতে আপনার কাজ হবে সুবিধামতো সময়ের প্লেনের টিকেট ক্রয় করা।

৪. Fly to USA :

ভিসার পাবার পর খেয়াল রাখতে হবে আপনার সেমিস্টার কবে, কখন থেকে শুরু হচ্ছে। আপনাকে সে সময়ের হিসেব করে প্লেনে চড়তে হবে।