[alert style=”info”][স্পেসিফিকলি জিআরই-টোফেলের প্রিপারেশনের জন্য যেমন রুটিন ফলো করা সুবিধাজনক, সেটি ছাড়াও সাধারণ রুটিনড ওয়ে সম্পর্কে এ লেখায় বলা হয়েছে][/alert]

[alert style=”danger”]জিআরই-টোফেল দেবেন এমন স্টুডেন্টদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশী আসা প্রশ্নগুলোর মধ্যে সম্ভবত এগুলো থাকবেঃ[/alert]

১. আমার হাতে তিন মাস। কী কী বই পড়বো?
২. প্রতিদিন কয় ঘণ্টা পড়লে ভালো স্কোর করা সম্ভব হবে? একটা ভালো রুটিন কোথায় পাওয়া যাবে? (অনেক সময় এর উত্তর পাওয়া যায় এমন – ইনবক্সে আসুন, ভালো রুটিন বানিয়ে দিচ্ছি!)।
৩. আমি এত স্কোর করতে চাই। এজন্য কীভাবে পড়বো?

আমরা শর্টকাট চাই, টেমপ্লেট চাই, তৈরি জিনিস চাই, জেনারালাইজড সবকিছু চাই। সেই থেকেই হয়তো সাজেশনের প্রতি আমাদের এত নির্ভরতা।

সত্যি বলতে, মানুষ আলাদা। তার জীবন আলাদা। তার চারপাশ আলাদা। তার বুদ্ধিমত্তা ও মেধা আলাদা। তার মানসিকতা আলাদা। এমনকি তার আলসেমি করার ধরণও আলাদা। কাজেই একটা “কাস্টোমাইজড” রুটিনের চেয়ে ভালো কিছুই হতে পারে না। যে নিজেকে বুঝেছে, নিজের দুর্বলতা বুঝেছে এবং নিজের এই কাস্টোমাইজড রুটিন খুঁজে পেয়েছে, সাফল্য তারই। আপনি যদি নিজের সাইকোলজি বোঝেন এবং কিছুদিন খাটতে রাজি থাকেন, তাহলে জিআরই-টোফেলের প্রিপারেশন নেয়ার ব্যাপারটি আর যেকোনো সমস্যার মতই সমাধান করতে পারবেন।

থাম্ব রুলটা খুবই সরল। এক দিনে বেশী প্রেশার নিলে আপনিই বিরক্ত হয়ে ছেড়ে দেবেন। কাজেই একটু বেশী সময়, যেমন কয়েক মাস নিয়ে প্রতিদিন অল্প অল্প করে পড়ে এগুনো ভালো। খুব প্যাশন নিয়ে ঝোঁকের মাথায় এক দিনে বারো ঘণ্টা পড়া, দ্বিতীয় দিনে বিশ্রাম নেয়া, তৃতীয় দিনে গা ম্যাজম্যাজ করা এবং চতুর্থ দিনে প্রিপারেশন বাদ দেয়া – এমনটি হরহামেশাই ঘটছে!
আর বর্তমানে রিসোর্স এত বেশী, আপনার অনেক সময় হয়তো চলে যাবে সব ম্যাটেরিয়াল হাতে নিয়ে সেগুলোকে গোছাতে, সেগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকতে, “এত বেশী, কী করে শেষ করবো” এটি ভাবতে, এবং সর্বোপরি প্ল্যান করতে। শেষ পর্যন্ত যেহেতু পড়তেই হবে তাই আগপিছু না ভেবে কাজ শুরু করে দিন। প্ল্যান না হয় ফাঁকে ফাঁকে করবেন!

পারকিনসন’স ল’ বলে একটা ল’ আছে। এটি অনেকটা এরকম – আপনাকে একটা কাজ করতে যতটা সময় দেয়া হবে, আপনি ততোটা সময়ই নেবেন। যদি তিন মাস সময় দেয়া হয়, তিন মাস লাগিয়েই করবেন। মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে তিন মিনিটে করতে বলা হলে তিন মিনিটেই করবেন। আপনার যদি সত্যি সত্যি একটা কিছু প্রয়োজন হয়, তাহলে সম্ভবত সেটা সত্যিই পাবেন। যদি একবারেই একটা কাজ পারতে হয়, তাহলে একবারেই পারবেন। ব্যাপারটা আবেগ, মোটিভেশন, ইন্সপিরেশন ইত্যাদির চেয়েও বেশী নির্ভর করে আপনার সাফল্য কতটুকু সত্যিই প্রয়োজন, তার ওপর। আর ভাগ্যের ব্যাপার তো আছেই। যেসব প্যারামিটার আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে, সেগুলো নিয়ে আমরা চিন্তা বেশী করি। সেটি না করে যেগুলো আমাদের হাতে আছে, সেগুলো নিয়ে কাজ করাই যুক্তিসঙ্গত।

[alert style=”danger”]কী কী বই পড়বো?[/alert]

** সবই ভালো বই। একটু কম ভালো আর বেশী ভালো, এই আরকি। কিছু কিছু বই কনসেপ্ট নিয়ে ডিল করে, কিছু বই ড্রিল বা প্র্যাকটিস নিয়ে ডিল করে। আপনার প্রয়োজন বুঝে, দুর্বলতা বুঝে রিডিং ম্যাটেরিয়ালসের তালিকা করে ফেলুন। ক’মাস সময় আছে, তাতে রিজনেবলি ক’টা বই শেষ করতে পারবেন সেটিরও তালিকা করে ফেলুন। যে টপিকে আপনি দুর্বল, সেটি আগে শেষ করুন। যেটিতে সবল, সেটি একেবারে ছেড়ে না দিয়ে সেটিরও টাচে থাকুন। এ ব্যাপারগুলো মাথায় রেখে তারপর একটা একটা করে ধরুন। এগুতে পারছেন কিনা, খুব খারাপ করছেন কিনা, শেষ পর্যন্ত শেষ করতে পারবেন কিনা এসব নিয়ে ভাবাভাবি বাদ। যেটা পড়ছেন, সেটি শেষ করুন।

[alert style=”danger”]কেমন রুটিন ফলো করবো?[/alert]

**সিম্পল রুটিন। যেটি আপনার জন্য পেইনফুল হবে না। যখনই বিরক্ত লাগবে, তখনই আপনি পড়া ছেড়ে দিয়ে অন্য কাজ ধরবেন। কিছুদিন বাদে আবার ফিরে আসবেন। দুষ্টচক্র চলতেই থাকবে। দিন চলে যাচ্ছে কিন্তু আমি এগুতে পারছি না – এ অনুভূতি চলে এলেই বিপদ।

[alert]কী কী বই পড়বেন তাতে কিছু যায় আসে না, এই ক’মাসে শেষ করতে পারবেন এমনটা হলেই হবে। ধরুন দশটা বই পুরোপুরি সলভ করবেন। বুঝে করার চেষ্টা করবেন, এবং ক’টা ভুল করছেন তা নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। কী কী বই শেষ করা বাকি থেকে গেলো তা নিয়েও মাথা ঘামাবেন না। আপনি যে টপিকগুলোতে দুর্বল, সেগুলোতে আসলে বেশীরভাগ ছাত্রছাত্রীই দুর্বল, কাজেই এটা নিয়েও চিন্তিত হবার কারণ নেই।[/alert]

আর্টিকেলটির ২য় খণ্ড পড়তে [button size=”large,small,mini” color=”purple” url=”http://hsa.grecbd.com/customized-routine-2/” target= “_blank”]ক্লিক করুন[/button]

 

– ইসহাক খান, প্রাক্তন গ্রেক ফ্যাকাল্টি


নিচের লিংক থেকে ইসহাক খানের লেখা অন্যান্য আর্টিকেলগুলো পড়তে পারেন-

 স্টুডেন্টদের সাধারণ দুর্বলতা – পার্ট ১ – Vocabulary
 স্টুডেন্টদের সাধারণ দুর্বলতা – পার্ট ২ – Analytical Writing
 স্টুডেন্টদের সাধারণ দুর্বলতা – পার্ট ৩ – Reading Comprehension
 স্টুডেন্টদের সাধারণ দুর্বলতা – পার্ট ৪ – Speaking (TOEFL)
 Originality of writing: এসওপি, এলওআর, ইমেইলিং প্রফেসরস, সিভি ও রেজুমে (১ম খণ্ড)
 Originality of writing: এসওপি, এলওআর, ইমেইলিং প্রফেসরস, সিভি ও রেজুমে (২য় খণ্ড)
 Customized Routine: নিয়মিত ফলো করা (১ম খণ্ড)
 Customized Routine: নিয়মিত ফলো করা (২য় খণ্ড)
 আমার জন্য সঠিক রাস্তা কোনটা: বিদেশ, জিআরই, স্বদেশ, বিসিএস, চাকরি?
 রেকমেন্ডেশন বিড়ম্বনা!
 Research: রিসার্চ বা গবেষণা
 ইউএস অ্যাম্বেসির ভেতরের পরিবেশ এবং স্টেপগুলো
 ইংরেজিতে দক্ষতা এবং কিছু স্ট্র্যাটিজি
 Teaching: শেখা ও শেখানো, দেয়া ও নেয়া
 ইউএস ভিসা পাওয়া না পাওয়া এবং হায়ার স্টাডির কিছু পয়েন্ট
 জিআরই এবং টোফেল: হায়ারস্টাডির প্রস্তুতি হোক স্ট্র্যাটিজিক্যালি (পার্ট- ১)
 জিআরই এবং টোফেল: হায়ারস্টাডির প্রস্তুতি হোক স্ট্র্যাটিজিক্যালি (পার্ট- ২)
 জিআরই এবং টোফেল: হায়ারস্টাডির প্রস্তুতি হোক স্ট্র্যাটিজিক্যালি (পার্ট- ৩)
 জিআরই এবং টোফেল: হায়ারস্টাডির প্রস্তুতি হোক স্ট্র্যাটিজিক্যালি (পার্ট- ৪)
 আমার অভিজ্ঞতা: জিআরই প্রস্তুতি এবং পরীক্ষা
 আমার অভিজ্ঞতা: টোফেল প্রস্তুতি এবং পরীক্ষা
 আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা এবং দরকারি কৌশল