[আপাতত স্টুডেন্টদের সাধারণ দুর্বলতা নিয়ে আলোচনার এটিই শেষ পর্ব। ভবিষ্যতে হয়তো আরও পর্ব যোগ হবে। এ লেখার শেষে “শেষ কিছু কথা” হিসেবে কয়েকটি জেনারেল পয়েন্ট দেয়া আছে।]

জিআরই অ্যাকাডেমিক টেস্ট। কিন্তু টোফেল ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্ট। ইন্টারনেট বেইজড এ টেস্টে আপনার চারটি স্কিল পরীক্ষা করা হবে – Reading, Listening, Speaking and Writing.

জিআরই এর পাশাপাশি যদি টোফেল একটু একটু করে পড়েন, আর স্পিকিং-এর জন্য একটু কেয়ারফুলি প্রিপারেশন নেন, তাহলে জিআরই দেয়ার কয়েকদিন পরই টোফেল দিয়ে দিতে পারবেন।

সাধারণত যারা জিআরই দিয়েছে তাদের টোফেলের রিডিং এবং রাইটিং অংশে কোন সমস্যা হয় না। লিসনিং এর জন্য ইংলিশ মুভি, টিভি সিরিজ ইত্যাদি দেখা “খানিকটা” কাজে দেয়। সমস্যা হল স্পিকিঙয়ে, কারণ আমাদের অনেকেরই দু’লাইন কোন বিষয়ের ওপর বলতে গেলে হোঁচট খেতে হয়, এবং আণ্ডারগ্র্যাডে ইংলিশ প্রেজেন্টেশনের সংখ্যা হাতেগোণা, দায়সারা ধরণের – এবং সেগুলোতেও আমাদের পারফর্মেন্স অত্যন্ত খারাপ। সাধারণত আমরা বাংলায় চিন্তা করি, সেটাকে ইংরেজিতে ট্রান্সলেইট করি, তারপর একটা ভুলভাল উচ্চারণে প্রেজেন্ট করি বলে আমাদের ইংরেজি বলতে খুব সমস্যা হয়। স্পিকিং সেকশনের সময়ও কম, মাত্র বিশ মিনিটে ছ’টা অ্যান্সার করতে হয়, কাজেই কোন ভুল করার বা সময় নিয়ে কাজ করার সুযোগ নেই। এটির প্রিপারেশন একটু বেশী গুরুত্ব দিয়ে নিতে হবে।

স্পিকিং সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং স্টেজ, কারণ এ পর্যায়ে এক সেশনের সবারই প্রায় একসাথে স্পিকিং শুরু হয়। একটি রুমে প্রায় পঁচিশজন একসাথে নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে চিৎকার করতে থাকে (সম্ভবত অনেকের ধারণা যে গলার জোরের ওপর মার্ক নির্ভর করে)। প্রথমজন হয়তো মোটামুটি জোরে বলে, সেজন্য দ্বিতীয়জনের ডিস্টার্ব হয়, তাই দ্বিতীয়জন আরও জোরে বলে। তৃতীয়জন আবার তার চেয়েও জোরে … এভাবে একজন আরেকজনকে ছাপিয়ে যেতে চায়। এখানে কখনোই আরেকজনের দিকে তাকানো যাবে না, আরেকজনের কথার কারণে ডিস্ট্র্যাক্টেড হওয়া যাবে না, এবং মাথা গরম করা যাবে না। অনেক কথা বলতে না গিয়ে গুছিয়ে অল্প কথায় শেষ করা ভালো স্ট্র্যাটেজি। এছাড়াও কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে রেসপন্স ঠিকঠাক দেয়ার ব্যাপক প্র্যাকটিস থাকতে হবে। মনোযোগ নিজের দিকেই রাখতে হবে।

যদি আপনি স্পিকিংয়ে ভালো স্কোর করতে পারেন, তাহলে আপনার ইউএসএ-এর ভার্সিটিগুলোতে টিএ পাওয়া সহজ হবে। কাজেই এই সেকশনের স্কোর ভালো রাখার চেষ্টা করুন। বাসায় বসে নিজের রেসপন্স রেকর্ড করে দেখুন কেমন শোনায়।
স্পিকিংয়ে কয়েকটা ফ্যাক্টরের ওপর আপনার নম্বর নির্ভর করে –

১. আপনি রেসপন্স শেষ করতে পেরেছেন কিনা,
২. কতটা গুছিয়ে বলতে পেরেছেন,
৩. আপনার উচ্চারণ (খুবই গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর),
৪. আপনার শব্দচয়ন ইত্যাদি।

ওপরের ফ্যাক্টরগুলো মাথায় রাখলে, টাইমড কন্ডিশনে বারবার প্র্যাকটিস খুব কাজে দেবে। আশেপাশে একটা ভিডিও অথবা গান ছেড়ে চেষ্টা করুন নিজের রেসপন্স মনোযোগ দিয়ে রেকর্ড করতে। এটা রিয়েল সিচুয়েশনের কাছাকাছি আপনাকে নিয়ে যাবে। টাইমড কন্ডিশনে প্র্যাকটিস করলে আপনি শিখবেন কী করে সময়ের মধ্যে কথা বলে শেষ করা যায়। আপনার কমনসেন্স ডেভেলপ করবে, বুঝবেন যে ত্রিশ সেকেন্ড সময় পেলে কয় লাইন আসলে বলা উচিৎ। যখন মুভি বা টিভি সিরিজ দেখেন, চেষ্টা করুন একটা ইংরেজি শব্দ কী করে তারা উচ্চারণ করে সেটা খেয়াল করতে। আর গুছিয়ে বলার ব্যাপারটা ঠিক করবেন যখন প্রশ্ন শুনবেন তখন – কাগজে ছোট্ট করে নোট নিন কোন দুটো পয়েন্ট বলবেন। শব্দচয়ন ভালো হলে ভালো, কিন্তু লম্বা লম্বা শব্দ বলতে গিয়ে যেন সময়ে টান না পড়ে যায়। মোটামুটি সাধারণ শব্দে বলতে পারলেও আপনি ভালো স্কোরই পাবেন।

ইটিএস এর বইটার সফটওয়্যারে স্পিকিং সেকশনে কিছু স্যাম্পল রেসপন্স পাবেন। এখান থেকেও বুঝতে পারবেন ভালো রেসপন্স কোনগুলো, খারাপ কোনগুলো ইত্যাদি। নিজেকে নিরপেক্ষভাবে জাজ করার চেষ্টা করুন।

এখানে প্রশ্ন ছয়টা ছয় রকমের হবে। প্রথম প্রশ্নে কোন একটা টপিক বলা হবে, আপনাকে এ সম্পর্কে কিছু বলতে হবে (যেমন – আপনার প্রিয় জায়গা)। পরের প্রশ্নগুলো তুলনামূলক সহজ, কারণ হয়তো একটা কনভার্সেশন শুনতে হবে, তারপর সেটির ওপর একটা প্রশ্ন করা হবে, আপনাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কিছু বলতে হবে। পুরো বিশ মিনিট পূর্ণ মনোযোগ রাখুন, ঠিকই উতরে যাবেন।

একটা সমস্যা হতে পারে যে আপনি নির্দিষ্ট সময়ে বলে শেষ করতে পারছেন না। চেষ্টা করুন রেসপন্স সংক্ষিপ্ত কিন্তু পূর্ণ করতে। দুটো পয়েন্ট বাছাই করুন। তারপর ঐ দুটো পয়েন্টের ওপর দুই লাইন দুই লাইন করে বলুন। দেখবেন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই পারছেন। প্র্যাকটিস করতে করতে আপনার বলার ফ্লো চলে আসবে, তখন আরেকটু বেশী বলতে পারবেন। হড়বড় করে অনেক কিছু বলতে গিয়ে গুলিয়ে ফেলার চেয়ে অল্প বলুন, কিন্তু মানসম্মত কথাবার্তা বলুন।

ভালো স্কোর বলতে অনেকে অনেক কিছুই বুঝতে পারে, কিন্তু সবগুলো সেকশনে চেষ্টা করুন ২৫ এর কাছাকাছি বা তার ওপরে রাখতে। খুব সহজেই পারবেন। এটা যেহেতু ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্ট, কাজেই এর এক একটা সেকশনের স্কোর সরাসরি নির্দেশ করবে আপনার ঐ স্কিল কেমন।

শেষ কিছু কথাঃ

**অনেকে কনফিউশনে থাকে নিজের দুর্বলতা কোথায় সেটা নিয়ে। অনেকে লজ্জাতেও থাকে, হতাশাতেও পড়ে যায়। তবে এগুলো দূর করতে হবে। সবার আগে বার করতে হবে নিজের দুর্বলতা কোথায় সেটা। একটা ফুল লেংথ টেস্ট দিয়ে দিন কোন প্রিপারেশন ছাড়াই। বেরিয়ে আসবে আপনি কী কী টপিক পারেন না। সেগুলোতে একটু বেশী সময় দিন। ফুল লেংথ টেস্ট যত বেশী দেবেন, ততই নিজের অবস্থাটা পরিষ্কার হবে। অবশ্যই পরীক্ষার আগে আগে ফুল লেংথ মডেল টেস্ট দিয়ে নিজেকে ধাতস্থ করে নেবেন।

 

**একটা দুটো বই পড়া মানে হাতে গোণা কয়েকটা প্রবলেম সলভ করা। আর বেশী বই পড়া মানে বেশী প্র্যাকটিস করা। বুঝতেই পারছেন, যত বই সলভ করা যায় ততই ভালো। কাগজের বই বাদ দিয়ে পিডিএফ পড়ার ট্রাই করবেন, কারণ সাড়ে চার ঘণ্টা একটানা কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে পরীক্ষা দেয়া একটা অভ্যাসের ব্যাপার। এছাড়াও যা পড়বেন ইংরেজি পড়বেন, ব্যাখ্যাও ইংরেজিতে পড়বেন – “আসুন বাংলায় জিআরই পড়ি” জাতীয় বইগুলোর ধারেকাছেও যাবেন না। অনেক সময় মনে হয় বাংলায় ব্যাখ্যা পড়লে বুঝি, ইংরেজিতে বুঝি না তাই বাংলাতেই পড়া উচিৎ – কিন্তু এটা ধীরে ধীরে আসলে ক্ষতিই করে। দ্রুত ইংরেজি পড়ার স্কিল বাড়ানোর উপায় হল ইংরেজিতে চিন্তা করতে শেখা। আমরা যেটা করি তা হল বাংলায় চিন্তা করি, তারপর ইংরেজিতে মনে মনে অনুবাদ করি, তারপর সেটা বলি। এতে সময় লাগে অনেক। চেষ্টা করুন পুরো প্রসেস ইংরেজিতে সারতে। চেষ্টা করতে করতেই হবে।

 

– ইসহাক খান, প্রাক্তন গ্রেক ফ্যাকাল্টি


নিচের লিংক থেকে ইসহাক খানের লেখা অন্যান্য আর্টিকেলগুলো পড়তে পারেন-

 স্টুডেন্টদের সাধারণ দুর্বলতা – পার্ট ১ – Vocabulary
 স্টুডেন্টদের সাধারণ দুর্বলতা – পার্ট ২ – Analytical Writing
 স্টুডেন্টদের সাধারণ দুর্বলতা – পার্ট ৩ – Reading Comprehension
 স্টুডেন্টদের সাধারণ দুর্বলতা – পার্ট ৪ – Speaking (TOEFL)
 Originality of writing: এসওপি, এলওআর, ইমেইলিং প্রফেসরস, সিভি ও রেজুমে (১ম খণ্ড)
 Originality of writing: এসওপি, এলওআর, ইমেইলিং প্রফেসরস, সিভি ও রেজুমে (২য় খণ্ড)
 Customized Routine: নিয়মিত ফলো করা (১ম খণ্ড)
 Customized Routine: নিয়মিত ফলো করা (২য় খণ্ড)
 আমার জন্য সঠিক রাস্তা কোনটা: বিদেশ, জিআরই, স্বদেশ, বিসিএস, চাকরি?
 রেকমেন্ডেশন বিড়ম্বনা!
 Research: রিসার্চ বা গবেষণা
 ইউএস অ্যাম্বেসির ভেতরের পরিবেশ এবং স্টেপগুলো
 ইংরেজিতে দক্ষতা এবং কিছু স্ট্র্যাটিজি
 Teaching: শেখা ও শেখানো, দেয়া ও নেয়া
 ইউএস ভিসা পাওয়া না পাওয়া এবং হায়ার স্টাডির কিছু পয়েন্ট
 জিআরই এবং টোফেল: হায়ারস্টাডির প্রস্তুতি হোক স্ট্র্যাটিজিক্যালি (পার্ট- ১)
 জিআরই এবং টোফেল: হায়ারস্টাডির প্রস্তুতি হোক স্ট্র্যাটিজিক্যালি (পার্ট- ২)
 জিআরই এবং টোফেল: হায়ারস্টাডির প্রস্তুতি হোক স্ট্র্যাটিজিক্যালি (পার্ট- ৩)
 জিআরই এবং টোফেল: হায়ারস্টাডির প্রস্তুতি হোক স্ট্র্যাটিজিক্যালি (পার্ট- ৪)
 আমার অভিজ্ঞতা: জিআরই প্রস্তুতি এবং পরীক্ষা
 আমার অভিজ্ঞতা: টোফেল প্রস্তুতি এবং পরীক্ষা
 আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা এবং দরকারি কৌশল

 

Comments

comments