অনেকের প্রশ্ন থাকে, প্রফেসরের কাজ কী করে বুঝবো? রিসার্চ ওয়ার্ক বা পেপার বা জার্নাল কী করে পড়বো? রিসার্চের সাথে যুক্ত হবো কী করে? এই ক্ষুদ্র লেখাটি তাদের জন্য।
সবার আগে প্রশ্নঃ রিসার্চ কি আমার জন্য?

** এটি নির্ভর করে মানুষটির ওপর। সবাই টিচার হবার মত মানসিকতা নিয়ে জন্মায় না। সবাই সরকারী চাকুরি করার মানসিকতা রাখে না। তেমনি সবাই রিসার্চার হবারও ক্ষমতা রাখে না। এটিই স্বাভাবিক। এটি সাধারণত আমাদের মানতে কষ্ট হবে, কারণ ছোটবেলা থেকে আমরা জানি না যে পৃথিবীতে পেশা অসংখ্য, আমাদেরকে শেখানো হয় পৃথিবীতে তিনটি পেশা আছে – ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার এবং টিচার। বাকিগুলোর দিকে হাত, পা বা মাথা বাড়ানো খুব রিস্কি! তাই সব ছাত্রছাত্রী এই তিনটির জন্য জান দিয়ে লড়াই করে, আর আশি পার্সেন্টই খুব হতাশা নিয়ে জীবন কাটায়, কারণ নিজেকে খুঁজে পায় না। যা হোক, রিসার্চ যেহেতু বেশ লং টার্ম একটি ব্যাপার, এদিকে আসার আগেও নিজেকে জিজ্ঞেস করা উচিৎ –

ক) একটা নির্দিষ্ট বিষয়ে আমার প্যাশন বা শেখার আগ্রহ আছে কি?
খ) বিষয়টি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করলে আমি কি বুঝি?
গ) বিষয়টি নিয়ে খুব বিরক্তির সাথে হলেও দীর্ঘ সময় কাজ করতে পারবো কি?
ঘ) বাইরে পড়তে যাবার সময় আমি শুধুমাত্র টাকা কামাতে যাচ্ছি না, রিসার্চ করতেও যাচ্ছি – এটি আমার মনে আছে কি?

যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, সম্ভবত আপনি রিসার্চ করতে পারবেন!

যদি পিএইচডি করতে যান, অনেকটা ধরে নেয়া যায় যে একটা লাইফ চয়েজ করছেন। কাজেই একটু ভাবুন, সময় নিয়ে।

কয়েকটি পয়েন্টঃ

১. একজন প্রোফেসরের ল্যাবের ওয়েবসাইট তাঁর কাজকর্ম বোঝার জন্য সবচেয়ে ভালো জায়গা। এখানে তাঁর পাবলিকেশনগুলো সাজানো থাকে। বোঝা যায় তিনি রিসেন্ট বছরগুলোতে অ্যাক্টিভ কিনা। পাবলিকেশনগুলোর অনেকগুলো ডাউনলোডও করা যায়। তাঁর ল্যাবের গোল বা অবজেক্টিভ নিয়েও কথাবার্তা থাকে। ল্যাবে যারা কাজ করছে, তাদের প্রোফাইলও থাকে। কাজেই এটা দেখতে পারলে ভালো। এটাও বোঝার চেষ্টা করুন তাঁর ল্যাবে কী ধরণের কাজ হচ্ছে – অ্যানালিটিক্যাল, এক্সপেরিমেন্টাল, কম্পিউটেশনাল নাকি মিক্সড ধরণের। ভাবুন, আপনি এ ধরণের কাজের সাথে কম্ফোর্টেবল কিনা।

২. কোন ইউনিভার্সিটিতে অ্যাপ্লাই করা হচ্ছে তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। একেক ইউনিভার্সিটিতে একেক বিষয়ে ভালো রিসার্চ হয়। সাবজেক্টওয়াইজ র‍্যাঙ্কিংও একেকটা ভার্সিটির একেকরকম হয়, একেক ডিপার্টমেন্টের জন্য। অ্যাপ্লাই করার আগে ওয়েবসাইট (ভার্সিটির, প্রোফেসরের এবং ল্যাবের) একটু কষ্ট করে ঘাঁটাঘাঁটি করলে ভালো আইডিয়া পাওয়া যায়।

কিছু ডিপার্টমেন্টের ক্ষেত্রে প্রোফেসর এবং অ্যাক্টিভ রিসার্চ পাওয়া দুষ্কর, যেমন আইপিই – এটা সাবজেক্টের ধরণের কারণে এবং প্রোফেসরের অপ্রতুলতার কারণে। তারপরও খুঁজলে বেরিয়ে পড়েই। দুঃখজনকভাবে আমাদের এখনো তেমন ডাটাবেইজ সব ডিপার্টমেন্টের জন্য গড়ে ওঠে নি। আশা করা যায় বছর কয়েক পর একজন ছাত্র সার্চ দিলেই সব পেয়ে যাবে। অ্যাপ্লাই করার আগে অবশ্যই পড়তে যাওয়ার উদ্দেশ্য, রিসার্চের ইন্টারেস্ট ইত্যাদি ব্যাপার মাথায় রাখা আবশ্যক।

৩. গুগল স্কলারে সার্চ দিলে (টপিক অথবা অথারের নাম দিয়ে) অনেক ডাউনলোডেবল পেপার পাওয়া যাবে। অন্তত অ্যাবস্ট্রাক্ট পড়া যাবে। নির্দিষ্ট টপিক, বছরের রেঞ্জ ইত্যাদি দিয়ে কাঙ্ক্ষিত পেপারটা বার করে পড়ে নেয়াটা ভালো অভ্যেস।

৪. অ্যাবস্ট্রাক্টে সংক্ষেপে পুরো পেপারটার কাজকর্ম, উদ্দেশ্য এসব বলা থাকে। এটি ভালোভাবে পড়ে নেয়া কর্তব্য। তবে ভালোভাবে বুঝতে হলে পুরো পেপারটাই পড়তে হবে।

৫. অনেকেই খুব কষ্টে থাকেন এই নিয়ে যে, একবার পড়লে পেপারটির কিছুই বুঝি না। কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে যে, একজন স্টুডেন্ট একটা পেপারের সমস্ত কিছু একবার পড়লেই বুঝে ফেলবে, এটা আশা করা বৃথা। হয়তো কয়েকবার পড়তে হবে। হয়তো এটার সাথে রিলেটেড কিছু পেপার (যেগুলো পেপারের রেফারেন্স সেকশানে বলা থাকবে) দেখতে হবে। হয়তো কোন বই থেকেও কিছু বুঝে নিতে হবে। তবেই পেপারটি আয়ত্তে আসবে।

৬. একটু একটু করে পড়ে বারবার থামার চেয়ে ফার্স্ট রানে অনেকগুলো শর্ট নোট নিয়ে ফেলে সেগুলো সম্পর্কে সার্চ করা ভালো। এতে সেকেন্ডবার পড়ার সময় পেপারটির অনেক কিছু ক্লিয়ার হয়ে যাবে। এজন্য একজন ছাত্রের মতই পেপার পড়ার সময় খাতা-কলম নিয়ে বসা জরুরী।

৭. কোন টিচার বা রিসার্চগেটে অ্যাক্সেস আছে এমন কেউ আপনাকে রিকোয়েস্ট পাঠালে আপনিও রিসার্চগেটের অনেক পেপারের অ্যাক্সেস পাবেন। তাছাড়া কাউকে বললে সে আপনাকে ডাউনলোড করেও দিতে পারবে। ম্যাটেরিয়াল কালেকশনের চেয়ে ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করাটাই গুরুত্বপূর্ণ।

পরিশেষে, একটি কথা আছে – কোন কিছু নিয়ে ভালো করে জানতে হলে সেটি নিয়ে বই লেখা শুরু করাই ভালো! রিসার্চ নিয়ে রিসার্চ করতে করতেই আপনি রিসার্চ সম্পর্কে অনেক কিছু জেনে ফেলবেন!

ধন্যবাদ এবং শুভকামনা।

 

– ইসহাক খান, প্রাক্তন গ্রেক ফ্যাকাল্টি


নিচের লিংক থেকে ইসহাক খানের লেখা অন্যান্য আর্টিকেলগুলো পড়তে পারেন-

 স্টুডেন্টদের সাধারণ দুর্বলতা – পার্ট ১ – Vocabulary
 স্টুডেন্টদের সাধারণ দুর্বলতা – পার্ট ২ – Analytical Writing
 স্টুডেন্টদের সাধারণ দুর্বলতা – পার্ট ৩ – Reading Comprehension
 স্টুডেন্টদের সাধারণ দুর্বলতা – পার্ট ৪ – Speaking (TOEFL)
 Originality of writing: এসওপি, এলওআর, ইমেইলিং প্রফেসরস, সিভি ও রেজুমে (১ম খণ্ড)
 Originality of writing: এসওপি, এলওআর, ইমেইলিং প্রফেসরস, সিভি ও রেজুমে (২য় খণ্ড)
 Customized Routine: নিয়মিত ফলো করা (১ম খণ্ড)
 Customized Routine: নিয়মিত ফলো করা (২য় খণ্ড)
 আমার জন্য সঠিক রাস্তা কোনটা: বিদেশ, জিআরই, স্বদেশ, বিসিএস, চাকরি?
 রেকমেন্ডেশন বিড়ম্বনা!
 Research: রিসার্চ বা গবেষণা
 ইউএস অ্যাম্বেসির ভেতরের পরিবেশ এবং স্টেপগুলো
 ইংরেজিতে দক্ষতা এবং কিছু স্ট্র্যাটিজি
 Teaching: শেখা ও শেখানো, দেয়া ও নেয়া
 ইউএস ভিসা পাওয়া না পাওয়া এবং হায়ার স্টাডির কিছু পয়েন্ট
 জিআরই এবং টোফেল: হায়ারস্টাডির প্রস্তুতি হোক স্ট্র্যাটিজিক্যালি (পার্ট- ১)
 জিআরই এবং টোফেল: হায়ারস্টাডির প্রস্তুতি হোক স্ট্র্যাটিজিক্যালি (পার্ট- ২)
 জিআরই এবং টোফেল: হায়ারস্টাডির প্রস্তুতি হোক স্ট্র্যাটিজিক্যালি (পার্ট- ৩)
 জিআরই এবং টোফেল: হায়ারস্টাডির প্রস্তুতি হোক স্ট্র্যাটিজিক্যালি (পার্ট- ৪)
 আমার অভিজ্ঞতা: জিআরই প্রস্তুতি এবং পরীক্ষা
 আমার অভিজ্ঞতা: টোফেল প্রস্তুতি এবং পরীক্ষা
 আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা এবং দরকারি কৌশল

Comments

comments